রাজধানীতে পকেটমার চক্রের নারী সদস্যসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার রাজধানী লালবাগ থানার আজিমপুর এলাকায় ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (আজিমপুর শাখা) মেইন গেটের বিপরীত ও শাহবাগ থানার গুলিস্তান এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. মাহাবুব হোসেন (৩২), মো. মোক্তার হোসেন (৪০), রফিকুল ইসলাম (৪২), মো. ইমরান হোসেন (২০), বর্ষা আক্তার ওরফে মীম (২২), সুমি আক্তার প্রিয়া (২৩), শাবনুর (২৭), আলেয়া ওরফে আলো (২১), সাথী আক্তার (২৬), ছৈয়দ হালদার (৪০), মো. আশরাফ ঢালী (৩৮), মো. জাকির হোসেন (৩৯), মোছা. ছকিনা বেগম (৪৩), সুজনা আক্তার ওরফে সুজিনা আক্তার ওরফে রুশকিনা (২৬), মোসা. তানিয়া খানম (২৭) ও তাসলিমা খাতুন (৩৭)।

মশিউর রহমান বলেন, চক্রটি বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল, স্কুল-কলেজের সামনে, শপিং মলে শিশু কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াত। সুযোগ পেলেই তারা নারীদের ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা তুলে নিয়ে সটকে পড়ত। কখনো বোরকা পরা নারী, আবার কখনো শিশু কোলে স্নেহময়ী মা হয়ে ঘুরে বেড়াতেন তারা। পর্দানশীল মায়ের পরিচয়ে মুহূর্তেই ঢুকে যেতেন জনস্রোতে। চোখের পলকে নারী ও পুরুষের পকেট বা ব্যাগ কেটে চুরি করে নিতেন নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ব্যাগে রাখা স্বর্ণালংকার। এসব বিক্রি করা হতো মহাজনের কাছে। আর এই মহাজনেরা লাখ টাকার একটি ঝকঝকে আইফোনের জন্য দিতেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাজধানীর একটি শপিংমলে এক নারীর ব্যাগ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে দ্রæত কেটে পড়ছেন আলেয়া। ১০ বছর বয়স থেকে তিনি মোবাইল চুরির কাজে যুক্ত হন।

মশিউর রহমান আরও বলেন, তারা একটি অভ্যাসগত ও সংঘবদ্ধ চোর দলের সদস্য। দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা মহানগরের নিউমার্কেট, আজিমপুরসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, স্কুল-কলেজ, মার্কেটে ও হাসপাতালে বিশেষ কৌশলে ভ্যানেটি ব্যাগ বহনকারী নারীদের ব্যাগের চেইন খুলে এবং পুরুষদের শার্ট-প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা চুরি করতেন। লালবাগ থানাধীন আসামি মো. মাহাবুব হোসেন, মো. মোক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও মো. ইমরান হোসেনসহ আরও কয়েকজন চুরি করার কাজে কখনো কখনো সরাসরি অংশ নিতেন এবং এই চোরাই মোবাইল বিক্রি করে চোরদের মধ্যে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিতেন। গ্রেপ্তার এই পকেটমাররা সবাই পলাতক আসামি। তাদের আরও চার-পাঁচজন সহযোগী আশপাশের এলাকায় মোবাইল ফোন চুরি করেন এবং চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রযি করার জন্য ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় অবস্থান করেন। তিনি বলেন, একইভাবে শাহবাগ থানাধীন আসামিরা ঢাকা মহানগরের গুলিস্তান, গোলাপ শাহ মাজার, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, স্কুল-কলেজ, মার্কেটে ও হাসপাতালে একই কৌশলে পকেট মারতেন।

এই পকেটমার চক্রে তাদের আরও দু-তিনজন সহযোগী আছেন। আসামি ছৈয়দ, আশরাফ, জাকিরসহ আরও কয়েকজন পকেট মারার কাজে কখনো কখনো সরাসরি অংশ নিতেন এবং এই চোরাই মোবাইল বিক্রি করে তাদের মধ্যে টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে দিতেন। এরাও পলাতক আসামি। তাদের আরও দু-তিনজন সহযোগী আশপাশের এলাকায় মোবাইল চুরি করে এবং চোরাই মোবাইল বিক্রয় করার জন্য ঘটনাস্থল গোলাপ শাহ মাজারের আশপাশের এলাকায় অবস্থান করেন। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মশিউর রহমান বলেন, রাজধানীতে নারী পকেটমারের সংখ্যা কত, সেটা আমরা এখনো জানতে পারিনি। তবে তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২০-২৫ জনের নাম জেনেছি। রাজধানীতে অনেক মানুষই রয়েছেন, যাঁরা মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে জিডিও করেন না। আমরা যে ৪০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি, তার মধ্যে একটি মোবাইল ফোনের জিডি রয়েছে।

এনইউশো